☪ শরিয়াহ সম্মত রুকইয়াহ ও পরামর্শ কেন্দ্র
📞 যোগাযোগ: 01888552839

রুগী নিজের চোখেই যাদুর উৎস কিভাবে দেখে?!

20 Sep 2026

রুগী নিজের চোখেই যাদুর উৎস কিভাবে দেখে?!
আমেলের আমল বা ফুঁ দেওয়ার পর সব মানুষের চোখে দৃশ্য ভাসে না বা সবাই একই প্রভাব গ্রহণ করতে পারে না—এর পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক কারণ রয়েছে। কাদের চোখে ভাসে এবং কাদের ক্ষেত্রে এটি মোটেই সম্ভব হয় না, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: ১. সৌদি বা ওই অঞ্চলের মানুষের চোখে কেন কম ভাসে? সৌদি আরব বা আরব অঞ্চলের মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত চোখ বন্ধ করে দৃশ্য ভাসার ঘটনা খুব কম ঘটে। এর প্রধান কারণগুলো হলো: * আকীদাগত ও মানসিক গঠন (Mindset & Belief): আরব অঞ্চলের মানুষ ছোটবেলা থেকেই কোনো মধ্যস্থতাকারী বা কাল্পনিক দৃশ্যের চেয়ে সরাসরি আয়াতের প্রভাব ও রুকইয়াহর শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বাসী। তাদের অবচেতন মন (Subconscious Mind) দৃশ্য তৈরির কল্পনার চেয়ে সরাসরি আল্লাহর আয়াতের আধ্যাত্মিক প্রতিক্রিয়া গ্রহণে প্রস্তুত থাকে। * সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও ভৌগোলিক প্রভাব: আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে ছোটবেলা থেকেই রূপকথা, জাদুটোনা, অলৌকিক দৃশ্য বা কবিরাজি দেখা ও শোনার একটা মানসিক আবহ তৈরি থাকে। যা অবচেতন মনে একটি 'ইমেজ ফাইল' বা রূপ তৈরির পথ প্রস্তুত করে রাখে। আরবে এই পরিবেশ নেই, তাই তাদের ব্রেন অলৌকিক কোনো ছবি গঠন বা প্রসেস করে না। * তাআছছুর বা অনুভূতিশীলতার ধরণ: আরবীয়দের রুহানি প্রতিক্রিয়া মূলত শারীরিক (যেমন: বমি হওয়া, কাপন আসা, খিঁচুনি বা ঝিমঝিম করা)। তারা রূপক দৃশ্য দেখার চেয়ে সরাসরি অনুভূতিগত প্রতিক্রিয়ায় বেশি রেসপন্স করে। ২. কাদের চোখে দৃশ্য ভাসানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়? (যাদের চোখে ভাসে না) আমলিয়াত শাস্ত্রে এমন কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ রয়েছেন, যাদের ওপর হাজার আমল করলেও তাদের চোখে কোনো দৃশ্য ভেসে উঠবে না: ১. অত্যন্ত বাস্তববাদী ও যুক্তিবাদী মানুষ (Analytical/Logical Mind): যারা যেকোনো কিছুকে যুক্তির কষ্টিপাথরে মাপেন এবং যাদের ব্রেন সবসময় সচেতন (Active Consciousness) থাকে, তাদের অবচেতন মন সহজে কোনো আমলি প্রভাব গ্রহণ করে না। ২. দৃঢ় মানসিক শক্তির অধিকারী ও সন্দিহান ব্যক্তি (Skeptics): যারা বিষয়টিকে মনে মনে বিশ্বাস করতে পারে না বা পরীক্ষা করার নিয়তে বসে, তাদের মানসিকভাবে একটা শক্ত প্রতিরোধ তৈরি হয়ে থাকে। ফলে আমেলের 'তাছসীর' তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। ৩. যাদের কল্পনাশক্তি ও ডান ব্রেন (Right Brain) কম সক্রিয়: বিজ্ঞানের ভাষায় মানব মস্তিষ্কের ডান পাশ কল্পনা ও ভিজ্যুয়ালাইজেশনের কাজ করে। যাদের কগনিটিভ লেভেল বা লজিক্যাল লেভেল খুব শক্ত (বাম ব্রেন বেশি সক্রিয়), তাদের মাথায় চোখ বন্ধ করলে কেবল অন্ধকারই থাকে, কোনো ছবি আসে না। ৪. সুস্থ ও কোনো প্রকার আসরহীন ব্যক্তি: যার শরীরে বা আউরায় (Aura) কোনো জিনের ছায়া, জাদুটোনা বা আধ্যাত্মিক দুর্বলতা নেই, তার মস্তিষ্ক কোনো রূপক সংকেত তৈরি করে না। ৩. কাদের চোখে দ্রুত দৃশ্য ভাসে? (যাদের মাধ্যমে কাজ হওয়া সম্ভব) আমলিয়াত ও কশফের জন্য কিছু মানুষের মন ও রুহ স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত উর্বর হয়। নিচের মানুষের ক্ষেত্রে চোখে দৃশ্য ভাসা খুব সহজ ও দ্রুত হয়: ১. সহজাত সংবেদনশীল বা ইমোশনাল মানুষ (Highly Sensitive Persons): যাদের মন নরম, চোখ দিয়ে সহজে পানি আসে এবং যারা অন্যের দুঃখ-কষ্ট সহজে অনুভব করতে পারেন, তাদের ওপর আমেলদের ‘তাছসীর’ খুব দ্রুত কাজ করে। ২. শিশু ও কিশোর-কিশোরী (যাদের বয়স ৮-১৬ বছর): শিশুদের অবচেতন মন সম্পূর্ণ নিষ্পাপ ও কোনো যুক্তির বেড়াজালে বন্দি থাকে না। তাদের কল্পনাশক্তি খুব স্পষ্ট হওয়ায় তারা সবচেয়ে পরিষ্কার দৃশ্য (যেমন: পানির বাটিতে বা চোখে) দেখতে পায়। ৩. উচ্চ আধ্যাত্মিক বা রুহানি অনুভূতিসম্পন্ন মহিলা: সাধারণত নারীদের ডান ব্রেন এবং 'সিক্সথ সেন্স' বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় খুব দ্রুত কাজ করে। তারা বাহ্যিক আবরণ ভেদ করে রূপক দৃশ্য খুব সহজে ক্যাপচার করতে পারেন। ৪. যাদের ওপর অলৌকিক বা জিনগত সংযোগ রয়েছে: যে রোগীর শরীরে জিনের আছর বা জাদুটোনার গভীর প্রভাব রয়েছে, সেই জিন বা শক্তির কারণে তাদের মস্তিষ্কে দ্রুত বিভিন্ন সংকেত বা ছবি ভেসে ওঠে। প্রফেশনাল সারসংক্ষেপ: কারো চোখে দৃশ্য না ভাসা মানে এই নয় যে আমল কাজ করছে না বা রোগী সুস্থ হচ্ছে না। যেসব রোগীর চোখে ভাসে না, তাদের চিকিৎসা শারীরিক প্রতিক্রিয়া (ঝাঁকুনি, গরম লাগা, শরীর ভারি হওয়া) দেখা দিবে। আর যাদের চোখে ভাসে, তাদের চোখের সংকেত ব্যবহার করে আসল জাদুটোনার স্থান বা চালানের সংখ্যা চিহ্নিত করে সরাসরি আঘাত হানা সহজ। এটি রোগী ও মানুষের মস্তিষ্কের স্বভাবগত পার্থক্যের কারণেই হয়ে থাকে।
← সব পোস্টে ফিরে যান
◉ ☎