☪ কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে
📞 যোগাযোগ: 01888552839

আমার চিকিৎসা পদ্ধতি

19 Aug 2026  •  Starter

আমার চিকিৎসা পদ্ধতি
রুকইয়াহ শারইয়াহর এক অনন্য অধ্যায়: কুরআন ও আসমাউল হুসনার আলোতে আধ্যাত্মিক জগত উন্মোচন ও জাদুর উৎস ধ্বংস আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি আজকাল আমার আইডিতে শেয়ার করা রুকইয়াহর ভিডিওগুলো দেখে অনেকেই নানা প্রশ্ন করছেন। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন—*"ভাই, আপনি চোখ বন্ধ করে আমল করার সাথে সাথেই রোগীর সামনে জাদুর দৃশ্য কীভাবে ভেসে ওঠে? কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে জিন-জাদুর জটিল সমস্যা বা জ্বালাপোড়া ভালো হয়ে যায়? এই পদ্ধতি তো আগে কোথাও দেখিনি, এর ভিত্তি কী?"* সাধারণ মানুষের মনে এমন প্রশ্ন জাগা খুবই স্বাভাবিক, কারণ এই ময়দানে সাধারণত এই মাত্রার গভীর ও সূক্ষ্ম কাজ সচরাচর দেখা যায় না। তাই সবার অবগতি এবং ভুল ধারণা দূর করার জন্য আমার কার্যপদ্ধতির শরয়ী ও বাস্তব হাকীকত নিচে বিস্তারিত তুলে ধরছি: ১. প্রচলিত রুকইয়াহ এবং আমার পদ্ধতির মাঝে পার্থক্য কী? বর্তমানে চিকিৎসকদের মধ্যে মূলত দুটি দল দেখা যায়। একদল শুধু ভাসাভাসা তিলাওয়াত করেন, যার কারণে জাদুর মূল উৎস ধ্বংস হয় না এবং রোগী সাময়িক সুস্থ হলেও পরে আবার আক্রান্ত হন। অন্য দল জিন্নাতের সাহায্য নিয়ে তদবির করেন, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফিতনার কারণ। আমার পদ্ধতিটি এই দুইয়ের মাঝামাঝি এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি চিকিৎসায় **কোনো জিনের সাহায্য নিই না**, আবার শুধু ভাসাভাসা তিলাওয়াতও করি না। বরং আল্লাহর কালামের গভীর আমল ও আসমাউল হুসনার (যেমন: ইয়া খবীরু, ইয়া কাহহারু, ইয়া জাব্বারু) শক্তিশালী প্রভাব দিয়ে সরাসরি আধ্যাত্মিক জগতে জাদুর মূল উৎসে আঘাত করি। ২. রোগীর চোখে জাদুর দৃশ্য ভেসে ওঠা (কাশফ) কি কোনো জাদু?** না, এটি কোনো জাদু বা কুফরি নয়; বরং এটি হলো কুরআনের আয়াতের মুজিযা ও অলৌকিক প্রভাব। চিকিৎসাকালীন আমি যখন বিশেষ কিছু আয়াত (যেমন সূরা কাফের ২২ নম্বর আয়াত, যেখানে পর্দা সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে) তিলাওয়াত করে রোগীর চেহারায় ফুঁ দিই, তখন আল্লাহ তাআলার কুদরতে রোগীর বা আমার সহকারীর চোখের সামনে থেকে আধ্যাত্মিক জগতের "হিজাব" বা পর্দা সাময়িকভাবে সরে যায়। তাসাউফের পরিভাষায় একে **"কাশফ" বা আধ্যাত্মিক উন্মোচন** বলা হয়। এর ফলে ব্ল্যাক ম্যাজিকের সূক্ষ্ম রহস্যগুলো (কে জাদু করেছে, কোথায় পুতুল পোঁতা আছে, কীভাবে ক্ষতি করা হয়েছে) রোগীর সামনে একদম পরিষ্কার ভেসে ওঠে। এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর দান এবং তাঁর পবিত্র কালামের বরকত। ৩. জিনের চেয়ে মানুষের শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব (কোরআনের দলিল):** অনেকে মনে করেন জিন ছাড়া বুঝি জাদুর উৎস খোঁজা বা তা ধ্বংস করা অসম্ভব। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পবিত্র কুরআনে সুলাইমান (আ.)-এর দরবারে বিলকিস রানীর সিংহাসন নিয়ে আসার ঘটনায় দেখা যায়, এক শক্তিশালী জিন বলেছিল সে মজলিশ শেষ হওয়ার আগে সিংহাসন এনে দেবে। কিন্তু যার কাছে **'কিতাবের ইলম বা জ্ঞান'** ছিল (যিনি একজন মানুষ ছিলেন), তিনি চোখের পলক ফেলার আগেই তা এনে হাজির করেছিলেন (সূরা আন-নামল: ৩৯-৪০)। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর কিতাবের আমলকারী একজন মুমিন মানুষের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ও গতি জিনের চেয়ে অনেক বেশি। তাই জিনের মুখাপেক্ষী না হয়ে আল্লাহর কালামের শক্তিতেই সব সম্ভব। ৪. মুহূর্তের মধ্যে রোগীরা সুস্থ হচ্ছে কীভাবে?** আপনারা ভিডিওতে দেখেন, আমল করার পর রোগীরা তীব্র শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং পরক্ষণেই পুরোপুরি শান্ত ও সুস্থ হয়ে যায়। এর রহস্য হলো—যখন আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে জাদুর প্রতিরোধী আয়াতগুলো পড়ি, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতি সাহায্য হিসেবে **নূরানী ফেরেশতাদের** পাঠান (যেমন হাদীসে এসেছে, আয়াতুল কুরসী পড়লে ফেরেশতারা পাহারা দেয়)। আমার আমলের উসীলায় আল্লাহর প্রেরিত সেই অদৃশ্য কুদরতি শক্তি সরাসরি জাদুর উপকরণ ও খবিস জিনদের ওপর আক্রমণ করে তা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দেয়। জাদুর গিট বা মূল উৎস কেটে যাওয়ার সাথে সাথেই রোগী আল্লাহর রহমতে সাথে সাথে সুস্থতা অনুভব করেন, যা আপনারা ভিডিওতে দেখছেন। ৫. তদবিরের জগতে মৌলিক তিনটি রহস্য (আমার ব্যক্তিগত রিসার্চ): লং টার্ম প্র্যাকটিস ও গবেষণার মাধ্যমে আমি দেখতে পেয়েছি, তান্ত্রিকরা যখন কুফরি জাদু করে, তখন তারা মূলত ৩টি ধাপ বা উপকরণ ব্যবহার করে। আর এর বিপরীতে আল্লাহ তাআলা শরয়ী তদবিরের জগতেও ৩টি সমান্তরাল ও শক্তিশালী প্রতিষেধক রেখেছেন। এই রহস্যগুলো জানা থাকলে পুরো বিষয়টি বোঝা সহজ হবে: প্রথম রহস্য (মন্ত্র বনাম কুরআন): তান্ত্রিকরা জাদুর জন্য বিভিন্ন কুফরি ও শিরকী মন্ত্র পড়ে। এর বিপরীতে আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন তাঁর পবিত্র কালাম (কুরআনের আয়াত এবং আসমাউল হুসনা)। আল্লাহর একেকটি নামের ও আয়াতের ক্ষমতা কুফরি মন্ত্রকে মুহূর্তের মধ্যে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। দ্বিতীয় রহস্য (নাপাক উপকরণ বনাম বরকতময় উপকরণ): কুফরি জাদুতে তান্ত্রিকরা কবর বা চিতার ছাই, নাপাক জিনিস ও চুল-পুতুলের মতো ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করে। এর বিপরীতে রুকইয়াহর জগতে আল্লাহ রেখেছেন পবিত্র ও বরকতময় উপকরণ (যেমন: জমজমের পানি, কালোজিরা, জয়তুনের তেল বা তাসবিহের আমল)। তৃতীয় রহস্য (শয়তানের সাহায্য বনাম নূরানী ফেরেশতাদের পাহারা): তান্ত্রিকরা খবিস জিন ও শয়তানের সাহায্য নিয়ে মানুষের ক্ষতি করে। এর বিপরীতে আমরা যখন সহীহ নিয়তে আল্লাহর কালামের গভীর আমল করি, তখন রুহানি জগতে আল্লাহ তাআলার বিশেষ সাহায্য আসে। আল্লাহর হুকুমে নূরানী ফেরেশতারা এসে সেই খবিস জিন ও জাদুর উৎসগুলোর ওপর সরাসরি আক্রমণ চালায়। **আমার চূড়ান্ত অবস্থান:** আমি সম্পূর্ণ বুক ফুলিয়ে এবং চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি—এখানে কোনো কুফরি, কোনো শিরক, কোনো তান্ত্রিকতা বা জিনের কোনো ধরণের দূরতম সম্পর্কও নেই। যা হচ্ছে, শতভাগ কুরআন, সুন্নাহ এবং আল্লাহর আসমাউল হুসনার শক্তিতে হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ, যে রোগীরা ৮-১০ বছর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও সুস্থ হননি, তারা এখানে এসে মুহূর্তের মধ্যে আরোগ্য লাভ করছেন। প্রাথমিক অবস্থায় পদ্ধতিটি নতুন মনে হওয়ায় আপনাদের খটকা লাগতেই পারে, কিন্তু সুস্থতার এই ধারা সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত এবং পরীক্ষিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ফিতনামুক্ত ও সহীহ উপায়ে দ্বীনি খিদমত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
← সব পোস্টে ফিরে যান